নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরে বিষাক্ত মদ পান করিয়ে হত্যা মামলার দুইজন আসামি র্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার।
বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদী মোঃ জাহিদুল ইসলাম(৪০) এর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম বাদীর মামা। ধৃত আসামিদের অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সাথে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ১১.৩০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম কৌশলে তার আম ও মালটা বাগানে নিয়ে গিয়ে ভিকটিম এবং তার তিন বন্ধুকে বিষাক্ত এবং অতিরিক্ত পরিমাণ মদপান করান। পরবর্তীতে ভিকটিমসহ অন্যান্যরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায় এবং ভিকটিমসহ সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাদী ও পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। গত ০১/০৬/২০২৬ তারিখ দুপুর ০২.১০ ঘটিকায় উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম মোঃ সাজু মিয়া (৫৫) মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় ভিকটিমের সাথে থাকা তার তিনজন বন্ধুও বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে গত ০২/০৬/২০২৬ তারিখ ভিকটিমের ভাগিনা বাদী হয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/৩২৮/৩৪ ধারায় বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে আঘাত প্রদান করে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৪।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিসি-২, র্যাব-০৪, সাভার, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৬.১৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন নিরিবিলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার আলোচিত হত্যা মামলার এজহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি ০১। মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং ০২। মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪০) উভয়ের পিতা-মোঃ সোলেমান মিয়া, সাং-খোর্দ্দ কোমরপুর, থানা-মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুরদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।